উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী ২০২৬
ঢাকা থেকে উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীর দূরত্ব ঘোচাতে এবং আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী জানা অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি কর্মব্যস্ত শহর ঢাকা থেকে শান্ত প্রকৃতির জনপদ নোয়াখালীতে যাতায়াত করতে চান তবে এই ট্রেনটি আপনার প্রথম পছন্দ হতে পারে। আজকের এই বিস্তারিত পোস্টে আজ আমরা উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের আধুনিক সময়সূচী, নতুন সাপ্তাহিক ছুটির দিন, বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রা বিরতি এবং টিকিট মূল্যের সর্বশেষ আপডেট নিয়ে আলোচনা করব। এই লেখাটি পড়লে আপনি ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানার উপায় ও অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাবেন।
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন: উপকূলীয় অঞ্চলের সেতুবন্ধন
বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিসের মধ্যে উপকূল এক্সপ্রেস একটি জনপ্রিয় নাম। এটি মূলত রাজধানী ঢাকা ও নোয়াখালী জেলার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিলেও এর উন্নত সেবা ও সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর দক্ষতার কারণে যাত্রীরা এই ট্রেনটিকে বেশ প্রাধান্য দেন। বিশেষ করে যারা পরিবার নিয়ে নিরাপদে ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্য উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী মেনে পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ।
এই ট্রেনটি শুধুমাত্র সাধারণ যাত্রী পরিবহন করে না বরং এটি দুই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির মধ্যেও একটি গভীর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ পেশাগত কাজ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এই রুটে চলাচল করেন। ট্রেনটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং বগি বিন্যাস যাত্রীদের দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি অনেকটা কমিয়ে দেয়।
উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী ও স্টেশনের বিস্তারিত তথ্য
ট্রেন ভ্রমণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সময়ে স্টেশনে উপস্থিত হওয়া। উপকূল এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে নোয়াখালী এবং নোয়াখালী থেকে ঢাকা অভিমুখে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা শুরু করে। নিচে আমরা উভয় দিকের যাত্রা বিরতি ও পৌঁছানোর সময়গুলো টেবিল আকারে তুলে ধরছি যাতে আপনার বুঝতে সুবিধা হয়।
ঢাকা থেকে নোয়াখালী (৭১২ নং ট্রেন)
ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী ট্রেনটির নম্বর হলো ৭১২। এটি রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন বিকেলে যাত্রা শুরু করে। নিচে এর বিস্তারিত স্টপেজ দেওয়া হলো:
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|
| ঢাকা কমলাপুর | — | বিকাল ০৩:১০ |
| বিমান বন্দর | বিকাল ০৩:৩০ | বিকাল ০৩:৩৩ |
| নরসিংদী | বিকাল ০৪:১৫ | বিকাল ০৪:১৭ |
| ভৈরব বাজার | বিকাল ০৪:৪৭ | বিকাল ০৪:৫০ |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | বিকাল ০৫:১৫ | বিকাল ০৫:১৭ |
| আখাওড়া | বিকাল ০৫:৪২ | বিকাল ০৫:৪৭ |
| কুমিল্লা | সন্ধ্যা ০৬:৩৩ | সন্ধ্যা ০৬:৩৮ |
| লাকসাম | সন্ধ্যা ০৬:৫৮ | সন্ধ্যা ০৭:০৩ |
| মাইজদি | রাত ০৮:০২ | রাত ০৮:০৪ |
| নোয়াখালী জংশন | রাত ০৮:২০ | — |
আপনি যদি উত্তরবঙ্গ থেকে এসে এই রুটে ভ্রমণ করতে চান? তবে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী দেখে আপনার সংযোগকারী ট্রেনের পরিকল্পনা করতে পারেন। এতে আপনার যাত্রাপথ আরও সহজ হবে।
নোয়াখালী থেকে ঢাকা (৭১১ নং ট্রেন)
অন্যদিকে, নোয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ৭১১ নং উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী অনুযায়ী খুব ভোরে যাত্রা শুরু করে। যারা সকালে ঢাকায় পৌঁছে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে চান তাদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত সুবিধাজনক।
| স্টেশনের নাম | ছাড়ার সময় | গন্তব্যে পৌঁছানো |
|---|---|---|
| নোয়াখালী জংশন | সকাল ০৬:০০ | যাত্রা শুরু |
| মাইজদি কোর্ট | সকাল ০৬:০৭ | সকাল ০৬:০৯ |
| চৌমহনি | সকাল ০৬:২৩ | সকাল ০৬:২৫ |
| লাকসাম | সকাল ০৭:২৫ | সকাল ০৭:৩০ |
| কুমিল্লা | সকাল ০৭:৫২ | সকাল ০৭:৫৭ |
| আখাওড়া | সকাল ০৮:৫০ | সকাল ০৮:৫৫ |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | সকাল ০৯:১১ | সকাল ০৯:১৩ |
| নরসিংদী | সকাল ১০:০৫ | সকাল ১০:০৭ |
| ঢাকা কমলাপুর | সকাল ১১:০০ | গন্তব্য শেষ |
নতুন সাপ্তাহিক ছুটির দিন
অনেকেই পুরোনো তথ্য অনুযায়ী ট্রেনের ছুটির দিন হিসেব করে বিপাকে পড়েন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী ও বন্ধের দিনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী ৭১১ নম্বর ট্রেনটি প্রতি বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী ৭১২ নম্বর ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন নির্ধারিত হয়েছে প্রতি বুধবার। তাই ভ্রমণের আগে অবশ্যই দিনটি যাচাই করে নেবেন।
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট মূল্য ও সিট বিভাগ
ভ্রমণের বাজেট ঠিক করার জন্য টিকিটের দাম জানা খুব জরুরি। উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে সাধারণত দুই ধরণের প্রধান আসন ব্যবস্থা থাকে। একটি হলো শোভন চেয়ার এবং অন্যটি হলো স্নিগ্ধা বা এসি সিট।
- শোভন চেয়ার: ঢাকা থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত এর ভাড়া ৩১৫ টাকা। এটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য বেশ সাশ্রয়ী।
- স্নিগ্ধা (এসি): যারা একটু আরামদায়ক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাদের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯৮ টাকা।
উল্লেখ্য যে, যদি আপনি অনলাইন থেকে টিকিট ক্রয় করেন, তবে প্রতিটি আসনের ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যুক্ত হবে। ভাড়ার এই তালিকাটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।

অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ নিয়ম
বর্তমান সময়ে স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার ঝামেলা অনেক কমে গেছে। এখন ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে উপকূল এক্সপ্রেসের টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব। নিচে ধাপগুলো দেওয়া হলো:
- প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিট ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba’ অ্যাপে প্রবেশ করুন।
- আপনার মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন (অ্যাকাউন্ট না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিন)।
- ‘From’ অপশনে আপনার যাত্রার স্টেশন এবং ‘To’ অপশনে গন্তব্য স্টেশন নির্বাচন করুন।
- ভ্রমণের তারিখ এবং কাঙ্ক্ষিত সিট ক্লাস (শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা) বাছাই করুন।
- উপলব্ধ সিট থেকে আপনার পছন্দের সিটটি সিলেক্ট করে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন। আপনি বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।
সফলভাবে পেমেন্ট করার পর আপনার ইমেইলে একটি ই-টিকিট পাঠানো হবে। সেটি ডাউনলোড করে মোবাইলে সংরক্ষণ করুন অথবা প্রিন্ট করে নিতে পারেন। উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী অনুযায়ী ট্রেনের যাত্রা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো ভালো।
ট্রেন এখন কোথায়? লাইভ লোকেশন জানার উপায়
অনেক সময় যান্ত্রিক গোলযোগ বা লাইনের জ্যামের কারণে ট্রেনের কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনে আছে বা কতটুকু দেরি হতে পারে তা জানতে আপনি এসএমএস সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন।
আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন: TR [Space] Train Number (যেমন: TR 712) এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে। ফিরতি মেসেজে আপনি ট্রেনের বর্তমান অবস্থান এবং পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জানতে পারবেন। এই পদ্ধতিটি বিশেষ করে রাতের ভ্রমণে অত্যন্ত কার্যকর।
ভ্রমণকালীন কিছু টিপস ও সতর্কতা
আপনার যাত্রা আরও আনন্দময় করতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন:
- ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত হোন।
- যাত্রাপথে অপরিচিত মানুষের দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবেন না।
- নিজের মালামাল সাবধানে রাখুন, বিশেষ করে ল্যাপটপ বা মোবাইলের মতো দামী জিনিস।
- ট্রেনের ভেতরে ধূমপান করা দণ্ডনীয় অপরাধ, তাই এটি পরিহার করুন।
- আপনার সাথে শিশু থাকলে তাদের প্রতি বিশেষ নজর দিন এবং ট্রেনের দরজার কাছে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, ঢাকা-নোয়াখালী রুটে যাতায়াতের জন্য উপকূল এক্সপ্রেস একটি নির্ভরযোগ্য নাম। সঠিক উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী জেনে ভ্রমণ করলে আপনার যাত্রা হবে ঝামেলামুক্ত এবং আনন্দদায়ক। আমরা এই নিবন্ধে চেষ্টা করেছি নতুন সময়সূচী, ভাড়া এবং টিকিট কাটার নিয়মগুলো সহজভাবে তুলে ধরতে। নিয়মিত বিরতিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সময় পরিবর্তন করতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে আমাদের সাইট বা অফিসিয়াল রেলওয়ে ওয়েবসাইট থেকে আপডেট তথ্য যাচাই করে নেওয়ার অনুরোধ রইল। আপনার যাত্রা নিরাপদ ও সুখকর হোক।


